
বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সীমান্তবর্তী জেলা এবং অভ্যন্তরীণ গ্রাম-শহরে দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, পারিবারিক সহিংসতা, ও প্রলোভনের কৌশল কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা শিকার বানাচ্ছে অসহায় মানুষদের।
জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয়ে ভারতে, পাকিস্তানে, মধ্যপ্রাচ্যে, এমনকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। তাদের অধিকাংশকেই যৌন ব্যবসা, জোরপূর্বক শ্রম বা গৃহকর্মে বাধ্য করা হয়।
পাচারের প্রধান কৌশল:
- ভালো চাকরি বা বিয়ের প্রলোভন
- বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়ের মাধ্যমে আস্থা অর্জন
- সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ
- সীমান্তপথে অবৈধভাবে পাচার
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল:
যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো পাচারের অন্যতম কেন্দ্র।
- কেন ঘটছে পাচার?
- দারিদ্র্য ও বেকারত্ব
- সচেতনতার অভাব
- আইন প্রয়োগে শিথিলতা
- অপরাধী চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক
প্রতিরোধে করণীয়:
- সীমান্তে নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং বাড়ানো
- পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি
- স্কুল-কলেজে সচেতনতা কার্যক্রম
- সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নজরদারি
- পাচারের শিকারদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শুধু আইন দিয়ে নয়—মানুষের শিক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, ও সামাজিক সচেতনতা একসাথে নিশ্চিত না করলে এই ভয়াবহ প্রবণতা থামানো সম্ভব নয়।
সংবাদ দর্পণ/ এম ওয়াই












