
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৮ আগস্ট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে হরমুজের আনুষ্ঠানিক বা আইনগত মর্যাদা পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা নয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারোলিনায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে দেখছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান থাকায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে প্রণালিটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
ট্রাম্পের প্রকাশ করা মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ‘NEW U.S. Territory’ লেখা হয়েছে। মানচিত্রটি প্রকাশের সঙ্গে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কেন্দ্রে হরমুজ
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ও মানচিত্র প্রকাশের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
ট্রাম্প এরই মধ্যে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জলপথটি মাইনমুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানও প্রণালিটির ওপর নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।
ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।











