
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রধানদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তার পডকাস্ট সিরিজের তৃতীয় পর্বে তিনি এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা আমাদের জীবনের আনন্দ ও কষ্টের মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জন্মের পর আজান দেওয়া থেকে শুরু করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কিংবা প্রিয়জনের জানাজা জীবনের প্রতিটি বাঁকে মানুষ তাঁদের কাছে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার জন্য ছুটে যান। অথচ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব দীর্ঘদিনের।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা ঘোষণা করেন যে, ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সরকারিভাবে একটি মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে তাঁরা সমাজে সচ্ছলভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারবেন এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
পাশাপাশি তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। তারেক রহমান জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে তাঁরা ইসলামের আদর্শ বজায় রেখে হালাল ও সৎ উপায়ে অতিরিক্ত উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারেন।
বক্তব্যে তিনি বিএনপি সরকারের অতীত অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই দেশে ‘মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শুরু হয়েছিল। আগামীতে এই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।
বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, কৃষক, শ্রমিক ও নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে তিনি দেশবাসীকে ধানের শীষ প্রতীকের এই অগ্রযাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।











