দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান উৎসবমুখর পরিবেশে জকসু নির্বাচনের ভোট চলছে

দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান উৎসবমুখর পরিবেশে জকসু নির্বাচনের ভোট চলছে

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষা ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি, স্লোগান ও উৎসবমুখর উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শান্ত চত্বর, ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ ও ক্যাফেটেরিয়া এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নবীন-প্রবীণ সব শিক্ষার্থীর মধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারিবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন ভোটাররা। অনেক শিক্ষার্থীকে প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ মোট ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর প্যানেলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। প্রার্থীদের সমর্থকেরা রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও ব্যাজ পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন।

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। ভোটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রক্টোরিয়াল বডি ও বিএনসিসি-রোভার স্কাউট সদস্যরা শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটকেন্দ্রগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও অনেক। তারা বলছেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তির বাইরে গিয়ে যে ছাত্র সংসদ আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা ও ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে তেমন নেতৃত্বই তারা প্রত্যাশা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এরপর ভোট গণনা শুরু হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে মধ্যরাতের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।

দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সেশনজটমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিয়ে আরো পড়ুন

আজকের টপ নিউজ