
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে মিসরের রাফা সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন হলিউড অভিনেত্রী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গাজা ও বাইরের বিশ্বের মধ্যে একমাত্র স্থল যোগাযোগপথ হিসেবে পরিচিত এই সীমান্ত এলাকায় গিয়ে তিনি ত্রাণসংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার ফিলিস্তিনিদের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিসরের উত্তর সিনাই অঞ্চলের রাফা সীমান্ত এলাকায় সফর করেন। দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা, আহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত গাজায় চলমান মানবিক সংকট, ত্রাণ সরবরাহের জটিলতা এবং আহত ফিলিস্তিনিদের অবস্থার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তার এই সফর।
সফরের অংশ হিসেবে জোলি ‘মিসরীয় রেড ক্রিসেন্ট’-এর গুদাম পরিদর্শন করেন। এসব গুদামে গাজার জন্য পাঠানোর উদ্দেশ্যে জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে রাফা সীমান্ত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আল-আরিশ জেনারেল হাসপাতালেও যান, যেখানে গাজা থেকে আসা আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে জানান, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আহত রোগী আসায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জনবল সংকটের মধ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
উত্তর সিনাইয়ের গভর্নর মেজর জেনারেল খালেদ মুজাওয়ার জোলির এই সফরের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “এই সংকটময় সময়ে আপনার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরবে।” তার মতে, এই সফর মানবিক সহায়তা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ত্রাণবাহী ট্রাকচালক জোলিকে বলেন, “আমরা ভয় পাই না, প্রয়োজনে হাজারবার গাজায় ঢুকব।” এই বক্তব্য গাজার মানুষের প্রতি ত্রাণকর্মীদের অটল মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক আলোচনার পর রাফা সীমান্ত উভয়মুখী চলাচলের জন্য আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে রাফা সীমান্ত খোলার কথা ছিল। কিন্তু তখন ইসরায়েল কেবল ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছিল, ত্রাণ প্রবেশের বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির রাফা সীমান্ত সফর গাজার মানবিক সংকটকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। যুদ্ধ, অবরোধ ও ত্রাণ সংকটের মধ্যে থাকা ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।











