
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারত্ব সম্প্রসারণ ও ভূমি দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘভুক্ত ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর সংশ্লিষ্ট দেশ ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষে একটি যৌথ বিবৃতি উপস্থাপন করেন। এতে ইসরাইলের একতরফা পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।
সম্প্রতি ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে ভূমি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অঞ্চলটি পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত। ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ ওই অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা।
নিন্দা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সউদী আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির-এর মতো সংস্থাও এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভূমি নিবন্ধনের এ উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়াবে এবং পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। তিনি ২০২৪ সালে ইনটারন্যাশনাল কোর্ট অব জাসটিস-এর দেওয়া রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের উপস্থিতি ও বসতি স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০০টি অবৈধ বসতিতে ৪ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।
এদিকে পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ফেলে রাখা গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও ১২ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, ইসরাইলের এই নতুন পদক্ষেপ গাজা যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ বা ব্যাপকভিত্তিক শান্তি পরিকল্পনাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা











