
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্যাংকারটিকে পাহারা দিয়ে রাখার জন্য রাশিয়া নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে, এমন খবরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বুধবার এ পদক্ষেপ নিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এবং সামরিক বিশেষ বাহিনী মারিনেরা নামের ট্যাংকারটি জব্দ করে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তেলবাহী ট্যাংকারটি বর্তমানে আইসল্যান্ড ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছিল। এই ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইরানি তেল চালান করার অভিযোগ রয়েছে।
অতীতে এই ট্যাংকারে ভেনেজুয়েলার তেল বহন করা হত। তবে বর্তমানে ট্যাংকারটি খালি ছিল। এই খালি ট্যাংকারটিই যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করেছে।
ট্যাংকারটির নাম আগে ছিল বেলা ১। পরে এর নাম বদলে মারিনেরা রাখা হয়। গায়ানার পতাকাবাহী ট্যাংকারটি পরে রুশ ট্যাংকারে রূপান্তরিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা’ লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্যাংকারটিকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জব্দ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স এবং একটি সামরিক জাহাজ সহায়তা করেছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।”
আটলান্টিকে দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পিছু ধাওয়ার পর ট্যাংকারটি জব্দ হল। একটি রুশ সাবমেরিন ও কয়েকটি জাহাজ ওই এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা নিয়ে মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানানো মস্কো ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বৈরি অবস্থানে রয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-তে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ‘মারিনেরা’ ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর ওঠার সময় কাছেই একটি হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছিল।
চতুর্থ ট্যাংকার জব্দ করা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে ‘এম সোফিয়া’ নামের পানামার পতাকাবাহী আরও একটি ট্যাংকার আটকে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-র রেকর্ড অনুযায়ী, এটি তেল দিয়ে পূর্ণ ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে এটি চতুর্থ কোনো ট্যাংকার জব্দের ঘটনা।
হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার এক বিবৃতিতে বলেন, “শুধুমাত্র মার্কিন আইন ও জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংগতিপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনই অনুমোদিত হবে।”
চীনের নিন্দা ও তেলের বাজার এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মার্কিন চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একে ‘গুন্ডামি’ আখ্যা দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে যাতে চীনকে দেওয়া তেলের সরবরাহ ঘুরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে আটকে থাকা ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল তিনি বাজারমূল্যে বিক্রি করবেন এবং সেই অর্থ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে তিনি দাবি করেন। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরানোর চেয়ে তেল উৎপাদন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদুরোর সহযোগীদের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী। এতে বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
যদিও তিনি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিচ্ছেন, তবুও ট্রাম্প আপাতত মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ডেল্সি রদ্রিগেজকে দিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করছেন। তবে ট্রাম্পের শর্ত না মানলে রদ্রিগেজকেও মাদুরোর মতো পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে।










