
নাহিদা সুলতানা
সিলেটে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনের যোগসাজশ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“এবার সর্বদলীয় ঐক্যের কারণে প্রশাসনের নিশ্চয়ই যোগসাজশ ছিল। তা না হলে এখন তারা কীভাবে বের করতে পারে যে পাথরগুলো কোথায়? আবার নীরবতাও ছিল, হয়তো অতটা ঝুঁকি নিতে পারেনি।”
দায় এড়ালেন না, তবে প্রশ্ন তুললেন
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “পাথর কতটুকু তুলল, লুট হলো—এটা আমার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তবে আমি একজন পরিবেশ কর্মী এবং সরকারে আছি, তাই দায়িত্ব নেবো। কিন্তু লুট হয়ে যাওয়ার দায় আমাকে দেবেন না।”
মামলা ও তালিকা নিয়ে সংশয়
তিনি জানান, “এখন মামলা হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত দোষীদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে কিনা, সেটাই দেখতে হবে।”
ধর্মঘট ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ
রিজওয়ানা বলেন, “আমরা যখন দুই উপদেষ্টা সেখানে গিয়ে আক্রান্ত হলাম, পরে অভিযান চালিয়ে পাথর ভাঙার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু চার-পাঁচ দিন পর রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে চাপ প্রয়োগ করল, ঘোষণা দিল পাথর তুলতে দিতে হবে। পরিবহন মালিকরাও ধর্মঘট ডাকলেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, “এ ধরনের ধর্মঘট তাদের নতুন নয়। ২০২০ সালেও করোনার মধ্যে পাথর তোলা বন্ধের সময় তারা ধর্মঘট করেছিল। জনগণের জন্য বিন্দুমাত্র মায়া থাকলে এমন সময়ে ধর্মঘট ডাকত না।”
জনগণের শক্তি জয়ী
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “আজ মানুষ তার শক্তি দেখিয়েছে। লুটেরা চক্রের বিরুদ্ধে যখন মানুষ দাঁড়ায়, তখন যত রাজনৈতিক শক্তিই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তিই জয়ী হয়। আমি জনগণকে ধন্যবাদ জানাই তাদের প্রতিবাদের জন্য। ভবিষ্যতে পাথর লুটের আগে লুটেরারা দুবার চিন্তা করবে।”












