
বাংলাদেশে নারী জনসংখ্যা পুরুষের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও ভোটার হিসেবে পিছিয়ে আছেন নারীরা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন, আর পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। অর্থাৎ, নারী ভোটার কম ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৬ জন।
ইসি জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়া যাবে। যারা ১৮ বছর পূর্ণ করবেন, তাদের ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নারীর ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার কারণ
নারী শিক্ষার হার ও আয়ুষ্কাল বাড়লেও নিবন্ধনে পিছিয়ে আছেন অনেকেই।
গার্মেন্ট ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী নারীরা ছুটি না পাওয়া বা পুরুষের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ভোটার হন না।
সচেতনতার ঘাটতি, ভোট চুরি-ডাকাতি নিয়ে অনাস্থা এবং গ্রামে গিয়ে ভোটার হওয়ার অনাগ্রহও একটি বড় কারণ।
বিশেষজ্ঞ ও নেতৃবৃন্দের মতামত
ডা. ফওজিয়া মোসলেম (বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি):
“নারী ভোটার বাড়লে রাজনীতিতে অংশগ্রহণও বাড়বে। সাধারণ আসনে নারীদের মনোনয়ন দিতে পুরুষতন্ত্র বাধা দিচ্ছে।”
ড. মঈনুল ইসলাম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়):
“২০-২৪ বছরের নারীর সংখ্যা বেশি হলেও তারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে পিছিয়ে।”
কল্পনা আক্তার (শ্রমিক নেতা):
“নারীরা নিবন্ধনজনিত কাজে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নিজেরা এগিয়ে আসতে পারছেন না।”
রুহিন হোসেন প্রিন্স (সিপিবি):
“রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে নারী ভোটার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন—
“৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হতে পারবেন। বেদে, যাযাবর ও ভাসমান জনগোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। তবে কাউকে জোর করে ভোটার বানানো সম্ভব নয়।”
সংবাদ দর্পণ/ এমওয়াই












