
বিদায়ী ২০২৫ সাল ছিল দেশের পুঁজিবাজারের জন্য বিভিষীকাময়। পুঁজিবারের সূচক- লেনদেন নামে তলানীতে। এর মধ্যে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাতের পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশাজনক। ২০২৫ সাল শেষে তালিকাভুক্ত ফান্ড গুলোর মোট সম্পদমূল্য কমেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। তবে দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দার মধ্যেও সাফল্য দেখিয়েছে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত ক্যাপিটেক আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কেবল একটি আর্থিক সাফল্যই নয়-বরং বিনিয়োগকারীদের আমানতের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অঙ্গীকার, আস্থা ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বর্তমান বাজারে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগযোগ্য খাতের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরে ক্যাপিটেক আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সময়ে পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ঋণাত্মক ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ডিএসইএস ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ অবস্থানে ছিল-যা ফান্ডটির ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্সকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ফান্ডটির ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক সূচক বিশ্লেষণ করলে এর সুদৃঢ় ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর বিনিয়োগ কৌশলের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আলোচ্য অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ইউনিট প্রতি আয় ছিল ঋণাত্মক (১ দশমিক ৫৪) টাকা। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বাজার মূল্যে নিট সম্পদমূল্য ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ক্রয়মূল্যে নিট সম্পদমূল্য ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা তার দক্ষ টিমসহ তহবিল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ কৌশল প্রয়োগে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালার সকল ধারা শতভাগ প্রতিপালনের বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পুঁজিবাজারে ২০২৫ সাল ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ব্র্যাক ইপিএলের বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদে দেখা গেছে, বছর শেষে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মোট নিট সম্পদমূল্য কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে যেখানে এ খাতের মোট সম্পদমূল্য ছিল ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকায়।
এই প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও ব্যতিক্রমী সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড-এর নিট সম্পদমূল্য ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে অন্যান্য সব সম্পদ ব্যবস্থাপকের মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর নিট সম্পদমূল্য হ্রাস পেয়েছে।










