
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দুজনেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দির সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তাদের বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়।
রামিসার বাবা আদালতে জানান, ঘটনার দিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রী ফোন করে মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে এসে দেখেন, প্রতিবেশীরা একটি ফ্ল্যাটের সামনে জড়ো হয়েছেন। পরে সবার সহযোগিতায় ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
তিনি বলেন, ফ্ল্যাটের ভেতরে বাথরুমের সামনে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। পরে একটি কক্ষের ভেতর থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে থানায় গিয়ে মামলা করেন।
সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাকে জেরা করেন। এ সময় তিনি জানান, আসামিদের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় বা কোনো শত্রুতা ছিল না এবং তিনি আদালতে সত্য ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
এরপর সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি আদালতকে জানান, ঘটনার দিন বাসায় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একসময় বড় মেয়ে একা ফিরে এলে ছোট মেয়ে রামিসাকে খুঁজতে শুরু করেন। ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান।
পারভীন আক্তার বলেন, বহুবার দরজায় ধাক্কা দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন এবং স্বামীকেও খবর দেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও দরজা না খোলায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আদালতে বলেন, “আমি তাকে অনেকবার বলেছি, বইন দরজাটা খোল, তোর কিছু হবে না। কিন্তু সে দরজা খোলেনি।”
দরজা ভাঙার পর ফ্ল্যাটের ভেতরে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান বলে আদালতকে জানান তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
এদিকে, মামলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী রামিসার বড় বোনের বক্তব্য শিশু হওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরদিন রামিসার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।










