
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে ঘিরে ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন; বরং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকদের একজন খুরশীদ আলমের স্ত্রী। পরবর্তীতে ঋণটি খেলাপি হলেও এর দায় সরাসরি খুরশীদ আলমের ওপর বর্তায় না।
তিনি বলেন, ঋণটি একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া হয়েছিল এবং খুরশীদ আলম নিজে ঋণগ্রহীতা নন। তাই তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
এদিকে, খুরশীদ আলমকে ঘিরে অতীতের একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তের পর ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুই বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, সে সময় তার বিরুদ্ধে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। মুখপাত্র জানান, পরবর্তী মূল্যায়নে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নর পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নিয়োগের সিদ্ধান্ত যথাযথ বিবেচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। কোনো চাপ, সমালোচনা বা আন্দোলনের কারণে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।
আরিফ হোসেন খান বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত যদি বিভিন্ন পক্ষের চাপের ভিত্তিতে পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই নীতিগত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক অটল থাকবে।
এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভা আয়োজনের অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে অনলাইন সভা আয়োজনের সুযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমতি দিয়েছে। এতে বিদ্যমান বিধিমালার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
উল্লেখ্য, খুরশীদ আলমের অতীতের প্রশাসনিক শাস্তি এবং সাম্প্রতিক ঋণখেলাপি বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ঋণখেলাপির তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।










