এআই দিয়ে জেনারেল সেজে ফের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের!

এআই দিয়ে জেনারেল সেজে ফের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২৮ সালের নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একাধিক পোস্টে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। পোস্টগুলোর মধ্যে ছিল ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি পোস্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বেশ কিছু ছবি।

একটি এআই-নির্মিত ছবিতে ট্রাম্পকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই মার্কিন জেনারেল জর্জ প্যাটন ও ডগলাস ম্যাকআর্থারের পাশে সামরিক পোশাকে দেখা যায়। অন্য কয়েকটি ছবিতে তাকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে দেখানো হয়েছে। একটি ছবিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির পাশে ক্যাম্প ডেভিডে দাঁড়িয়ে হাসতে দেখা যায় ট্রাম্পকে।

তবে মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে বাধার মুখে রয়েছে।

এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন সময় তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য ও রসিকতা করেছেন। এমনকি হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা টুপিও পরেছিলেন। যদিও তিনি একাধিকবার স্বীকার করেছেন যে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে আর নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তার ক্ষমতায় থাকার সময় নিয়েও রহস্যময় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় কখন হবে তা নিশ্চিত নয়—সময় দীর্ঘও হতে পারে, আবার দ্রুতও শেষ হতে পারে।

একই আলাপে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তবে এখনই তাকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়াটা তাড়াহুড়ো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যক্তিগত আলোচনায় রিপাবলিকান দলের দাতাদের কাছে ট্রাম্প ভ্যান্সকে পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মধ্যেও তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার মাইক জনসন আগে জানিয়েছেন, সংবিধানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন দাবি করেছেন, ট্রাম্পকে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট করার একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০২৮ সালেও তিনি প্রেসিডেন্ট থাকবেন।

তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ও প্রচারণা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকেরা তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করছেন। সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ, অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা এবং সরকারি স্থাপনায় নিজের ছবি প্রদর্শনের মতো বিষয়ও এ বিতর্কে উঠে এসেছে।

নিয়ে আরো পড়ুন

আজকের টপ নিউজ