ত্রিদেশীয় ফাঁদে পড়ে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা

ত্রিদেশীয় ফাঁদে পড়ে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নামতে হচ্ছে অসংখ্য বাংলাদেশিকে। বাবুর্চি বা ক্লিনারের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে পাঠানো হয় সৌদি আরবে, এরপর রাশিয়ায়। সেখানে রুশ ভাষায় লেখা এক চুক্তিতে সই করিয়ে তাদের পাঠানো হয় সেনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে— তারপর সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, প্রতারণার শিকার হয়ে তারা বন্দুক, গুলি, গ্রেনেড হাতে ফ্রন্টলাইনে লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অঙ্গহানি ছাড়াও প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।

নিহত বাংলাদেশিদের নাম

সোহান মিয়া (নরসিংদী)

ইয়াসিন মিয়া শেখ (ময়মনসিংহ)

হুমায়ুন কবির (নাটোর)

রহমত আলী (নাটোর)

প্রতারণার কৌশল

“ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড” সহ একাধিক এজেন্সি এই চক্রে জড়িত।

ওমরাহ ভিসায় সৌদি নিয়ে কয়েক মাস রাখার পর পাঠানো হয় রাশিয়ায়।

প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়—
মাসে ২ লাখ টাকার সমান বেতন
এককালীন প্রায় ৩০ লাখ টাকা
যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্বের সুযোগ
মৃত্যু হলে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

বাস্তবে এসব কিছুই গোপন রাখা হয়। এমনকি রাশিয়ার নামে বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকাও প্রতারকরা আত্মসাৎ করছে।

ভুক্তভোগীর আর্তি

রাশিয়ায় যুদ্ধরত যশোরের জাফর আলী ভিডিও বার্তায় বলেন:
“আমাদের প্রতারণা করে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা বাঁচতে চাই, দয়া করে সরকার আমাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক।”

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ

বনানী থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা।

এজেন্সির মালিক ফারিহা জেরিন তামান্না ও সহযোগী আলমগীর গ্রেপ্তার।

সিআইডি জানিয়েছে, অন্তত ১০-১২টি এজেন্সি এই চক্রে জড়িত।

বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও রাশিয়ার নাগরিকদের নিয়ে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক।

সরকারের অবস্থান

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে— সরকারের কাছে যুদ্ধরত বাংলাদেশিদের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে ভুক্তভোগীরা চাইলে রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞ মত

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন:
“সরকারের জরুরি ভিত্তিতে ডাটাবেজ তৈরি করা উচিত, কতজন বাংলাদেশি রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে আছেন এবং কীভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া দরকার।”

নিয়ে আরো পড়ুন

আজকের টপ নিউজ