
বিশেষ প্রতিবেদন |
১৬ জুলাই ২০২৪—এই দিন শুধু একটি তারিখ নয়, এটি এক বিপ্লবের সূচনা, এক সাহসিকতার নাম।
এই দিনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশের রাইফেলের মুখোমুখি। তিনি ছিলেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রথম শহীদ, যিনি নিজের রক্ত দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন প্রতিরোধের আগুন।
প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়েছিল সাঈদের আত্মত্যাগ
আন্দোলনকারীদের মতে, আবু সাঈদের মতো সাহসী মানুষই ইতিহাস গড়েন।
যেমন শত বছর আগে ক্ষুদিরাম ফাঁসির মঞ্চে উঠে ছিলেন হাসিমুখে,
যেমন প্রীতিলতা বোমা হাতে অন্ধকারে ছুটে গিয়েছিলেন,
ঠিক তেমনি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় জায়গা করে নিলেন আবু সাঈদ।
চব্বিশের অভ্যুত্থান: শুরু এক বুক সাহস থেকে
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ঢাবির শিক্ষার্থীরা যখন ছাত্রলীগের হামলায় আহত,
রংপুরে তখন পুলিশি দমন-পীড়নের সামনে দাঁড়িয়ে যান একা সাঈদ।
কে জানতো, সেই সাহসী ছাত্রের বুকই বিদ্ধ হবে রাষ্ট্রীয় গুলিতে?
কিন্তু সেই রক্ত, সেই চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।
চট্টগ্রামে নিহত ৩
ঢাকায় নিহত ২
আহত সহস্রাধিক
আর তখনই গর্জে ওঠে সারা দেশ।
পরদিন সরকারের সিদ্ধান্তগুলো:
সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
ছাত্রলীগের অন্তত ৫০ নেতা পদত্যাগ করেন
সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে বর্বরতার বিরুদ্ধে
আবু সাঈদ: একটি নাম, একটি চেতনা
আন্দোলনের দাবানলে পরিণত হয় সেই একক আত্মত্যাগ।
সাঈদের বুক পেতে দাঁড়ানো ছিল সাহসের মূর্ত প্রতীক।
সেই সাহস আজ লাখো শিক্ষার্থীর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়।
“সবাই যখন পেছনে,
সাঈদ ছিলেন সামনে।
সবাই যখন চুপ,
সাঈদ ছিলেন গর্জে ওঠা কণ্ঠ।”












