
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন-এর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন দেশটিরই এক নারী নাগরিক চোই মিন-কিয়ুং। শুধু কিম নন, পিয়ংইয়ংয়ের আরও চারজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়।
চোই দাবি করেছেন,
১৯৯৭ সালে তিনি চীনে পালিয়ে যান, কিন্তু ২০০৮ সালে জোরপূর্বক উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরেই তাকে আটক করে কোরীয় কর্তৃপক্ষ, এরপর জেলখানায় তাকে যৌন নির্যাতন ও শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়।
চোই বলেন,
“আমি এখনো সেই সময়কার মানসিক আঘাতে ভুগছি।
আমি আজও ওষুধের ওপর নির্ভরশীল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কিম পরিবারকে জবাবদিহির আওতায় আনা আমার দায়িত্ব।”
সাউথ কোরিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন NKDB জানিয়েছে,
এই মামলা শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতেই নয়, বরং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও দাখিল করার পরিকল্পনা আছে।
এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা বলছেন,
“ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা”
কারণ, এই প্রথম কোনো উত্তর কোরীয় নাগরিক তাদেরই শাসকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আইনি পথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন।
অতীতেও দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রায় হয়েছে।
তবে সেগুলো প্রতীকী রায় হিসেবেই থেকে গেছে, পিয়ংইয়ং তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।
চোইয়ের প্রত্যয়—
“এই ছোট্ট পদক্ষেপটি যেন স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ভিত্তিপ্রস্তর হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর নৃশংস শাসনের শিকার না হন।”










