সাভারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন হচ্ছে কোটি টাকার সড়কের কাজ

সাভারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন হচ্ছে কোটি টাকার সড়কের কাজ

ঢাকার সাভার উপজেলা প্রকৌশল অফিস ম্যানেজ করেই নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাব-ঠিকাদার গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সুইসটেক এলাকায় সুইস টেক্সটাইল হতে হারুলিয়া সড়ক হয়ে কবরস্থান সড়কটি দৈর্ঘ্য ৫২৮ মিটার ও প্রস্থ ৬ মিটার।

ঢাকা জেলা গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি উন্নয়নের বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উচ্ছল কনস্ট্রাকশনকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজটি শুরু করেন সাব ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা। সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। সরেজমিন পরিদর্শন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক নাম্বার ইটের বদলে তিন নাম্বার ও তার থেকেও নিম্নমানের ইট, খোয়া ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সড়কের নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা অভিযোগ করলে এলজিইডির সার্ভেয়ার মোঃ আশরাফুল ইসলাম এর নির্দেশে কার্য সহকারী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং নিম্নমানের ইট-খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার এই নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ‘ম্যানেজ’ করে কাজ অব্যাহত রাখেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এই সড়ক পাকা হবে। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা ছয় মাসও টিকবে না। ইট হাত দিয়ে ভাঙলেই গুড়ো হয়ে যায়।

তবে সাব ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা বলেন, উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও আশরাফুল স্যারকে ম্যানেজ করেই কাজ করছি। কাজ কিছুটা নিম্নমানের হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, কোন অভিযোগ পেলে স্যাররা এসে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন।

সড়কের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাভার উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আশরাফুল ইসলাম সাব ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজের অভিযোগ পাওয়ার পর আমি মৌখিক এবং লিখিতভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু সাব ঠিকাদার আমার কোন কথায় কর্ণপাত করছে না। এখন আমরা তাদের বিল আটকে রাখতে পারি এছাড়া আর কি করবো।

সাভার উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, আমরা জেনেছি কিছু নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটির কাজ করা হচ্ছে। জানার পরেই আমরা সড়কের কাজটি বন্ধ করে দিয়েছি। আপনাদের কথা না শুনে পুনরায় ঠিকাদার কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, আমি এখনই লোক পাঠাচ্ছি যদি এমন হয়ে থাকে কাজ অবশ্যই বন্ধ হবে এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নতুন করে কাজ শুরু হবে। ঠিকাদারের কাছ থেকে আমার অফিসের কেউ সুবিধা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, সাভার উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঢাকা জেলা গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮ টাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উচ্ছল কনস্ট্রাকশনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মূল ঠিকাদার মোঃ মাসুদুল আলম পরে কাজটি সাব ঠিকাদার গোলাম মোস্তফার কাছে ‘বিক্রি’ করে দেন।

নিয়ে আরো পড়ুন

আজকের টপ নিউজ