ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে মরিয়া নোবিপ্রবি প্রশাসন মুখ থুবড়ে পড়ছে সকল কৌশল

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে মরিয়া নোবিপ্রবি প্রশাসন মুখ থুবড়ে পড়ছে সকল কৌশল

সম্প্রতি সময়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ এনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের পদত্যাগে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নোবিপ্রবি সাদা দল। এরপরই ভীষণ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে একের পর এক কৌশল অবলম্বন করলেও তাতেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নোবিপ্রবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ এনে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাদা দলের নেতৃবৃন্দরা এবং পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের পদত্যাগে আল্টিমেটাম দেয় তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯ ফেব্রুয়ারি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খণ্ডনের চেষ্টা করেন তারা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বক্তব্যকে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিবৃতি দেয় সাদা দল। উক্ত ঘটনার পর তীব্র ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে নোবিপ্রবি প্রশাসন।
এসকল ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। জানা যায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নোবিপ্রবি প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ কিছু শিক্ষক নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে নোবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। এ সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উক্ত শিক্ষক সংগঠনটি।
এ ঘটনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নুর হোসাইন বাবু এক ফেসবুক পোস্টে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করার পর ব্যক্তি স্বার্থে যারা এমন কর্মকাণ্ড চালাবে ৫ আগস্টের আগ থেকেই দল করা নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করবে এবং এ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামও সমালোচনা করে জানান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম–আপনাদের অনুরোধ করব আপনারা এই নাম পুনরায় ব্যবহার করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে কলুষিত করবেন না। আপনারা সুপ্তভাবে যে আদর্শ লালন করতেন দয়া করে সেখানেই থাকুন।
নোবিপ্রবি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “নোবিপ্রবিতে সাদা দল ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকদের অন্য কোনো সংগঠন নেই। আমি নিজে ২০০৬ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। ২০০৯ সালে প্রথম শিক্ষক সমিতির যাত্রা আমার হাত ধরেই শুরু হয় এবং আমি প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলাম। ২০১৩ সালেও আমি সভাপতি নির্বাচিত হই। ২০১৮ সালে আমরা জাতীয়তাবাদী ব্যানারে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সুতরাং স্পষ্ট যে, নোবিপ্রবিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকদের একমাত্র সংগঠন সাদা দলই।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও জামায়াতীকরণের বিরুদ্ধে আমরা শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিলাম। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন গোপনে কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে জাতীয়তাবাদী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নিজেদের পক্ষে কাজ করানোর চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করার পর হঠাৎ করে শিক্ষকদের নতুন সংগঠন গঠনের উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই ওঠে। এতদিন এসব সুবিধাবাদীরা কোথায় ছিলেন?”
এদিকে, সমালোচনার মধ্যেই সাধারণ শিক্ষক পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নোবিপ্রবি সাদা দল কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও এর প্রতিবাদে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ৪৯ শিক্ষকের যৌথ এক বিবৃতি প্রকাশের পর তা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিবৃতিতে নাম থাকা একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছিল এবং প্রকাশিত বিবৃতির ভাষা ও উপস্থাপনার মধ্যে মিল নেই। এতে তাঁরা বিব্রত ও লজ্জিত হয়েছেন বলে জানান।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হল প্রভোস্ট মো. নাসির উদ্দীন জানান, তিনি তখন তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে ছিলেন। এ সময় ট্রেজারার তাঁকে ফোন দিয়ে বলেন, বিরোধপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে এবং প্রশাসনের সদস্য হিসেবে তাঁর নাম রাখা হবে। তিনি সে প্রস্তাবে সম্মতি দেন।
কিন্তু পরে প্রকাশিত বিবৃতিটি সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে দেওয়া হয়েছে দেখে তিনি বিস্মিত হন। তাঁর ভাষ্য, আলোচনার সঙ্গে বিবৃতির ভাষার সঙ্গতি নেই এবং একজন শিক্ষক হিসেবে আরেকজন শিক্ষককে এভাবে ‘ব্যবহার’ করা হয়েছে বলে তিনি লজ্জিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করেছি। বিষয়টি কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কোথায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা চিহ্নিত করে শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।”

নিয়ে আরো পড়ুন