
সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদে শীতে জমে থাকা বরফ ভেঙে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাত চীনা পর্যটক ও এক রুশ চালকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে যখন একটি মিনিবাস হ্রদের বরফের ওপর দিয়ে চলছিল এবং হঠাৎ বরফ ভেঙে গাড়িটি প্রায় ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) গভীরে ডুবেছে। ডুবুরিরা বিশেষ ক্যামেরার মাধ্যমে বাস ও মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
রাশিয়ার ইরকুতস্ক শহরের গভর্নর ইগর কোবজেভ নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, “এ মুহূর্তে বৈকাল হ্রদের বরফের ওপর ভ্রমণ শুধু নিষিদ্ধ নয়, প্রাণঘাতীও।”
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে পরিচিত বৈকালের সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৬৪২ মিটার (৫ হাজার ৩৮৭ ফুট)। প্রচণ্ড শীতের সময় হ্রদের পানি অনেকটাই বরফ হয়ে যায়, যার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বৈকাল এখনও পর্যটকদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, মিনিবাসটি একটি প্রায় তিন মিটার চওড়া বরফের ফাটলে পড়েছিল। তিনি পর্যটকদের বৈকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ভ্রমণ পরিচালনাকারী ছাড়া অন্য কারও সহায়তা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহত চীনা পর্যটকদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও ছিলেন। সবাই নিজেদের উদ্যোগে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
কোবজেভ আরও জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পরও মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করছে না। শুক্র ও শনিবার পৃথক দুটি ঘটনায় বরফে আটকা পড়া গাড়ি থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করতে হয়েছে।
এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে বৈকাল হ্রদের বরফে চলাচলকালে একটি গাড়ি উল্টে এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই ধারাবাহিক ঘটনা হ্রদের বরফের ওপর ভ্রমণের ঝুঁকি এবং সতর্কতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মতে, বৈকাল হ্রদে শীতকালে পর্যটন পরিচালনায় কঠোর নিয়ম মেনে চলা ছাড়া প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারীরা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
পর্যটক এবং স্থানীয়দের সতর্ক করতে গভর্নর কোবজেভ পুনরায় সামাজিক মাধ্যমে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এবং সকলকে বৈকাল হ্রদে বরফের ওপর ভ্রমণে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।










