ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকের জবানবন্দি: ‘এরা সন্ত্রাসী, এদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না’

ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকের জবানবন্দি: ‘এরা সন্ত্রাসী, এদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না’

ফারজানা সিমু
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের গুলি করা হয়েছিল উঁচু স্থান বা হেলিকপ্টার থেকে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসায় বাধা দিয়েছিল তৎকালীন সরকার-সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কিছু চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে ডা. মোস্তাক বলেন—
“গুলিবিদ্ধ ছাত্রদের চিকিৎসা দিতে আমাদের অতিউৎসাহী হতে বারণ করেন স্বাচিপের কয়েকজন চিকিৎসক। তারা সরাসরি বলেন, এরা সন্ত্রাসী, এদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে আসা রোগীদের বেশিরভাগের বয়স ছিল ২০–৩০ বছরের মধ্যে। অনেকের মাথায় গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। কিছু অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মেডিকেলের গেটে থামিয়ে ছাত্রলীগের সদস্যরা পরিচয় যাচাই করে আহতদের হাসপাতালে প্রবেশে বাধা দিত।

ডা. মোস্তাক অভিযোগ করেন, আহতদের চিকিৎসা দেওয়ায় গত বছরের ২৫ জুলাই পাঁচজন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল আহতদের চিকিৎসা ব্যাহত করা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলায় ২৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

এদিন আরও দুই চিকিৎসক—মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মফিজুর রহমান এবং ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মনিরুল ইসলাম—সাক্ষ্য দেন।

নিয়ে আরো পড়ুন