
একটি ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি, শেয়ার ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থঋণ আদালত। চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১ এর একজন বিচারক এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এক বাণিজ্যিক ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে নেওয়া প্রায় ১০ হাজার ২৮০ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত একটি চারতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবনসহ মোট ৫.০০ কাঠা ও ৯.৯০ ডেসিমেল জমি জব্দ করার নির্দেশ দেন। জানা গেছে, এই সম্পত্তির মালিক এস আলম ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফারজানা পারভীন, যিনি ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সম্পত্তিটি ক্রয় করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এস এস পাওয়ার লিমিটেডের মালিকানাধীন ৫৮ কোটি টাকার অধিক শেয়ার, বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ও আলকডিয়া মৌজায় প্রায় ৩১,২৫১ দশমিক ৭০ ডেসিমেল জমি এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ অন্যান্য সম্পদও জব্দের আওতায় এসেছে। এই সম্পদগুলোর মালিকানা এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান—এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল ওয়েল এবং সোনালী কার্ডো লজিস্টিক লিমিটেডের বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও, ঢাকার গুলশান-১ এলাকায় একটি ব্যাংকে এস এস পাওয়ার লিমিটেডের তিনটি ব্যাংক হিসাবও জব্দের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাব মিলিয়ে মোট জমা রয়েছে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে একটি হিসাবে রয়েছে ১০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, দ্বিতীয়টিতে ৩৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং তৃতীয়টিতে মাত্র ৭৭৮ টাকা ৩১ পয়সা।
মামলাটি দায়ের করা হয় চলতি বছরের ২২ জুন। খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে দায়েরকৃত এ মামলায় বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এস আলম ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম, চেয়ারম্যান ফারজানা পারভীন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ আরও কয়েকজন শেয়ারহোল্ডারকে—যাঁরা হলেন আবদুস সামাদ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, ওসমান গণি, মো. রাশেদুল আলম ও এহসানুল আলম।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এসব সম্পদ এখন জব্দাবস্থায় থাকবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকবে।













