
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যার’ অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী দেশ ব্রাজিল।
বুধবার (২৩ জুলাই) ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মামলায় হস্তক্ষেপের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “চলমান সহিংসতার মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নৈতিক দ্বিধা বা রাজনৈতিক উদাসীনতার জায়গা এখন আর নেই।”
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দায়ের করা এই মামলায় ব্রাজিলের যুক্ত হওয়াকে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও তুরস্ক ইতিমধ্যে একই মামলায় হস্তক্ষেপের আবেদন করেছে।
গণহত্যা ও যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে খাদ্যাভাবের নিন্দা
ব্রাজিল অভিযোগ করেছে, গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতা এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
“যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে খাদ্য সঙ্কট তৈরি একটি জঘন্য উদাহরণ। আমরা দেখছি ফিলিস্তিনিরা গুলিবিদ্ধ হচ্ছে খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে, যা অমানবিক ও আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী,” বলা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।
ইসরায়েল ও ইহুদি সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
ব্রাজিলের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ইসরায়েলের তেল আবিব দূতাবাস। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্রাজিলের অবস্থান অতিরঞ্জিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত। এতে হামাসের ভূমিকা পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে।”
এছাড়া ব্রাজিলের জাতীয় ইহুদি সংগঠন কনিব বলেছে, “ইসরায়েলের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব থেকে সরে আসা এক বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চরমপন্থার ইঙ্গিত বহন করে।”
আইসিজে ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত রাখতে এবং গণহত্যা প্রতিরোধে ইসরায়েলকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়। তবে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন বিশ্লেষক গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যেই গঠিত হয় ইসরায়েল-মার্কিন উদ্যোগে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)। তবে এই গোষ্ঠীর বিতরণ কেন্দ্রে সহায়তার অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসংঘ এই কেন্দ্রগুলোকে ‘মৃত্যুকূপ’ আখ্যা দিয়ে এর সঙ্গে কোনো সংস্থাকে কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট লুলার স্পষ্ট বার্তা
এর আগেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা স্পষ্টভাবে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। গত ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তৃতীয়পক্ষের হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক আদালতের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।
সংবাদ দর্পণ/ এম ওয়াই











