অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর এক কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনে নিকোল গুডের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং বহু শহরে ‘আইসিই আউট ফর গুড’ (আইসিইকে স্থায়ীভাবে বের করে দাও) স্লোগান দিয়ে আয়োজিত র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) মিনিয়াপোলিসসহ নিউ ইয়র্ক, ওাশিংটন ডিসি, বোস্টন, হিউস্টন, সান অ্যান্টোনিও, ফিলাডেলফিয়া ও অন্য বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ এসব বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। তারা আইসিই কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা, অভিযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য তদন্ত দাবি করছে।

বিক্ষোভকারীরা রেনে গুডের নাম উচ্চারণ করে ‘নো জাস্টিস, নো পিস (ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি আসবে না)’, ‘আইসিই হ্যাজ টু গো (আইসিইকে বেরিয়ে যেতে হবে)’ এবং ‘এ্যাবোলিস আইসিই (আইসিই বিলুপ্ত করতে হবে)’ মতো দাবিসহ প্ল্যাকার্ড ধারণ করেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও আইসিই এর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডটিকে ফেডারেল তদন্তের ঘাটতি ও আইসিই এর ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ঘটনার ন্যায়সঙ্গত ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তাতে সরকারি কর্মীদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে উল্লেখ করছে, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীরা এই ব্যাখ্যায় সরাসরি আস্থা প্রকাশ করছেন না।

প্রতিবাদে আইসিই এর উপস্থিতি ও নাগরিকদের ওপর তাদের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, এবং আন্দোলনকারীরা আইসিই এর কার্যক্রম বন্ধ, ফেডারেল তদন্ত স্বচ্ছ করা এবং গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর পুনর্বিবেচনা দাবি করছে।

এই বিক্ষোভগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকার কর্মীরাও উপস্থিত থেকে ন্যায্য বিচারের জন্য সমর্থন জানাচ্ছে।

নিয়ে আরো পড়ুন