২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও কোটি কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বিএনপির

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও কোটি কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বিএনপির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরিবেশ রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উন্নয়নে এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তার ‘পডকাস্ট-৪’ এ তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির অনুপ্রেরণায় দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতি বছর কয়েক কোটি বৃক্ষরোপণের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং ঘনঘন বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে তার দল জয়যুক্ত হলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা শহরে ৬০০ থেকে ৭০০ ফিট গভীরে না গেলে পানি পাওয়া যায় না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আমরা যদি দেশে খাল খনন করতে পারি তাহলে যখন পানি আসবে বর্ষার মৌসুমে অথবা হঠাৎ করে সীমান্তের ওপার থেকে যদি পানি ছেড়ে দেয় তখন এই পানিগুলো ওই খালে জমা হবে। ওই খালে জমা হলে কি হবে মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হবে না, জমির ফসলও নষ্ট হবে না। বরং ওই পানিকে আমরা কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারব।’’ বর্তমানে পানির স্তর যেভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে খাল খননের ফলে সেই স্তর আবার উপরে উঠে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘‘ঢাকা শহরে আপনি যদি একটি টিউবওয়েল বসান এখন আপনাকে মিনিমাম ৬ থেকে ৭০০ ফিটের মতন গভীরে যেতে হবে তাহলে আপনি পানি পাবেন। ঢাকায় আগে একটা সময় ২৫-৩০ ফুট গভীরে গেলেই পানি পাওয়া যেত অথচ আজকে সেই ঢাকা শহরে ৬০০ ফিট গভীরে যেতে হয়’’, বলেন তারেক রহমান।

খাল খননের পাশাপাশি পানির বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত ব্যবহারের জন্য তিনি পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এই ব্যারেজগুলো নির্মিত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

দেশের হারিয়ে যাওয়া সবুজ ফিরিয়ে আনতে বছরে অন্তত কয়েক কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। এই বিশাল চারা গাছের চাহিদা মেটাতে দেশের প্রায় ৪৬৫টি সরকারি নার্সারি এবং প্রায় ১ লক্ষ ব্যক্তিগত নার্সারিকে পরিকল্পিতভাবে চারা উৎপাদনে নিয়োজিত করা। মাটির গুণাগুণ ও আবহওয়া অনুযায়ী (যেমন টেকনাফ বনাম তেঁতুলিয়া) নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে। বছরের ৮-৯ মাস চারা তৈরি করা হবে এবং বর্ষার ৩ মাস সারা দেশে রোপণ কর্মসূচি চলবে।

‘‘গাছ যদি কমে যায় তাহলে আমরাই বাঁচবো কেমন করে? কি করে আমরা গাছ কমে গেলে বুক ভরে শ্বাস নিব? একবার চিন্তা করেছেন এই বিষয়টি? কাজটি কঠিন, কিন্তু আমরা সকলে মিলে যদি প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি, তবে অবশ্যই এই বাংলাদেশ একটি সবুজ বাংলাদেশে পরিণত হবে।”, বলেন তিনি।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের তরুণ ও মুরুব্বিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাজটা কঠিন হলেও সবাই মিলে কোদাল ধরলে এবং বছরে একটি করে গাছ লাগালে বাংলাদেশকে আবার সবুজে ভরিয়ে তোলা সম্ভব।

‘‘২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন খুব সহজ কাজ নয়, বেশ কঠিন। কিন্তু আমরা সবাই মিলে যদি কোদাল ধরি, নিশ্চয়ই আমরা এই কাজটি করতে পারব’’, বলেন তিনি।

 

নিয়ে আরো পড়ুন

আজকের টপ নিউজ