
ঢাকা: বর্তমানে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণাও বেড়েছে। সম্প্রতি দেশে এআই ভয়েস ক্লোনিং ব্যবহার করে একটি ভয়ঙ্কর স্ক্যাম লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রতারকরা আপনার কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে পরিবারের সদস্যদের বিপদে ফেলতে পারে এবং অর্থ আদায় করে নেবে।
ঘটনাটি এমন: ফোনটি বাজে, স্ক্রিনে আপনার পরিচিতজনের নাম ভেসে ওঠে। ফোন ধরলেই সেই পরিচিত কণ্ঠ শুনে বলা হয়, “আমি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি, এখনই টাকা পাঠাও!” কান্না, আতঙ্ক ও আকুতির এই কণ্ঠ এতটাই বাস্তব, যে কোনো সন্দেহের সুযোগ থাকে না। টাকা পাঠানোর পরই জানা যায়, প্রিয়জন সুস্থ। কিন্তু তখন হয়ে গেছেন ডিজিটাল প্রতারণার শিকার।
প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে ঘটে:
১. ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহ:
৫–৩০ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপই যথেষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস নোট বা ফোন কল থেকে সহজে সংগ্রহ করা যায়।
২. ভয়েস ক্লোনিং:
প্রতারকরা ডিপ লার্নিং ও এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করে কণ্ঠের পিচ, টোন, গতি, উচ্চারণ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ভঙ্গি বিশ্লেষণ করে একটি ডিজিটাল ভয়েস প্রোফাইল তৈরি করে।
৩. প্রতারণার বাস্তবায়ন:
তৎপরতার মাধ্যমে ফোনে নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী কথা বলা হয়। ফোন নম্বর স্পুফিংয়ের মাধ্যমে স্ক্রিনে আসল নম্বর দেখানো হয়, ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতারণার ধরনও বিস্তৃত:
পারিবারিক জরুরি অবস্থা বা অপহরণের নাটক
কর্পোরেট ফ্রড, যেমন সিইও বা বসের কণ্ঠ নকল করে টাকা আদায়
সামাজিক সম্মানহানি ও ব্ল্যাকমেইল
ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া
সচেতন থাকার কৌশল:
সন্দেহ করুন, যাচাই করুন – ফোন কেটে নিজে কল করে নিশ্চিত হোন।
ফ্যামিলি সেফ-ওয়ার্ড ব্যবহার করুন – গোপন কোড বা বাক্য রাখুন।
ব্যক্তিগত প্রশ্ন করুন – কেবল আপনাদের জানা তথ্য।
অডিওর অস্বাভাবিকতা খেয়াল করুন – যান্ত্রিক টোন, আবেগহীনতা বা ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কণ্ঠস্বরের ভিডিও শেয়ার করার আগে প্রাইভেসি যাচাই করুন।
সচেতনতা ছড়িয়ে দিন – পরিবারের বয়স্কদেরও সতর্ক করুন।
এ যুগে চোখে যা দেখি, তাই বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয়; কানে যা শুনি, তারও যাচাই জরুরি। একটুখানি সতর্কতা এবং ঠান্ডা মাথায় কাজ করার ক্ষমতাই আপনাকে ও প্রিয়জনকে এ ধরনের ডিজিটাল ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
২০২৫রক্ষিতkkl;kj © ২০২৫স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২৫
স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২৫