
বান্দরবানের রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় একটি সেনা অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারসহ দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৩টি সাব-মেশিন গান (এসএমজি), একটি রাইফেলসহ বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চলমান থাকায় বৃহস্পতিবার সকালেও সেনাবাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে রুমা উপজেলার পলি প্রাংসা নামক এলাকায় একযোগে কয়েকটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সেনাবাহিনী ও কেএনএ সদস্যদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে সেনাবাহিনী দুই ব্যক্তির মৃতদেহ খুঁজে পায়।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, "গোলাগুলির ঘটনায় একজন কেএনএ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, তাই পুরো পরিস্থিতি জানতে সেনাবাহিনীর দুটি দল ও পুলিশের একটি দল সেখানে গেছে।"
এই ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে রুমা সেনা জোনে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু।
প্রসঙ্গত, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) যেটি স্থানীয়ভাবে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিত, তারা একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি করে যেখানে বম, খিয়াং, পাংখুয়া, লুসাই, খুমি ও ম্রো সম্প্রদায়ের বাস থাকবে, তবে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে সেনা অভিযানের কারণে বম জনগোষ্ঠীর অনেকে নিরাপত্তার খোঁজে ভারতের মিজোরাম ও বনাঞ্চলে আশ্রয় নেন। পরে বম সোশাল কাউন্সিল এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় তিনশ পরিবার তাদের নিজ এলাকায় ফিরে আসে। তবে ফিরে আসা পরিবারগুলো বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে বলে জানিয়েছে বম সোশাল কাউন্সিল।
২০২৫রক্ষিতkkl;kj © ২০২৫স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২৫
স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২৫