
বিরল এক রাতের সাক্ষি হলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম এক রাতে চার ম্যাচে গোল হয়েছে মাত্র দুটি, চারটি ম্যাচই হয়েছে ড্র।
বৃহস্পতিার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির জয়রথ থামিয়ে গোলশূন্য ড্র করে সান্ডারল্যান্ড। ধারহীন ফুটবলে ঘরের মাঠে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে লিভারপুলও। টটেনহ্যামহটস্পারকেও একই স্কোরলাইনে রুখে দিয়েছে ব্রেন্টফোর্ড। কেবল ক্রিস্টার প্যালেস ও ফুলহ্যামের মধ্যকার ম্যাচটিতে মিলেছে গোলের দেখা। সেটিও ড্র হয় ১-১ স্কোরলাইনে।
ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক পোর্টাল অপ্টা জো জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দিন যেদিন অন্তত চারটি ম্যাচ খেলা হলেও দুটির বেশি গোল হয়নি। এর আগে এমন ঘটনা প্রথম ঘটেছিল ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল। সেদিনও চার ম্যাচে গোল হয়েছিল মাত্র দুটি।
শুধু তা–ই নয়, পরিসংখ্যানের আরেকটি পাতায়ও এটি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় দিন, যেদিন চার ম্যাচের মধ্যে তিনটি শেষ হয় গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ে। এই ঘটনা প্রথম ঘটে ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল।
এদিন জিতলেই শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান দুই পয়েন্টে নামিয়ে আনতে পারত সিটি। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি পেপ গুয়ার্দিওলার দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট জয়ের পর পয়েন্ট হারাল ম্যানচেস্টারের দলটি।
আট বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা সান্ডারল্যান্ডের মাঠে খেলা এই মৌসুমে সব দলের জন্যই কঠিন হয়ে উঠছে। এখানে এর আগে পয়েন্ট হারিয়েছে আর্সেনাল, অ্যাস্টন ভিলার মতো দলও। সব মিলিয়ে আসরে ঘরের মাঠে ১০ ম্যাচে এখনও হারেনি সান্ডারল্যান্ড (৫ জয় ও ৫ ড্র)।
১৯ ম্যাচে ১৩ জয় ও ২ ড্রয়ে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। ৭ জয় ও ৮ ড্রয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে আছে সান্ডারল্যান্ড।
তবে এই ম্যাচ থেকে খুশির উপলক্ষও আছে সিটি সমর্থকদের জন্য। দ্বিতীয়ার্ধে চোট পাওয়া নিকো গন্সালেসের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রদ্রি। চোটের সঙ্গে লড়াই করে দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর অবশেষে এই ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরেন ২০২৪ সালের ব্যালন দ’র জয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
রদ্রি নামার পর সিটির খেলা গোছানো হয়ে ওঠে। আক্রমণের ধার বেড়ে যায়। গোল যদিও বের করতে পারেনি সিটি। তবু মাঝমাঠের ভরসাকে ফিরে পেয়ে আশার আলো দেখছেন গুয়ার্দিওলা।
“রদ্রি নেমে খেলাটা বদলে দিয়েছে। ৪৫ মিনিটেই রদ্রি প্রমাণ করেছে, তার এই পজিশনে সে সেরা। ফুটবল মানেই ফুটবলাররা... শুরুতে আক্রমণ গড়ে তুলতে ভুগছিলাম আমরা। রদ্রি নামার পর কম ভুগেছি।’
“সে নামার পর আমাদের বিচরণ ভালো হয়েছে, লাইনগুলো সে ভাঙতে পেরেছে। তাকে ছাড়া দেড় বছর ভুগছি আমরা, তার অভাব অনুভব করেছি। আশা করছি, সে ফিট থাকতে পারবে, কারণ সে থাকা মানেই আমাদের দল আরও ভালো হয়ে ওঠা।”
দিন শেষে তাদের মতো হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লিভারপুলকেও। বল দখলে তো বটেই, আক্রমণেও একচেটিয়া আধিপত্য করে লিভারপুল। কিন্তু ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো কিছুই করতে পারেননি উগো একিটিকে ও ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসরা। মৌসুমজুড়েই ধুঁকতে থাকা শিরোপাধারীরা প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার জয়ের পর আবার খেল হোঁচট।
১৯ ম্যাচে ১০ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে লিভারপুল; শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।
২০২৫রক্ষিতkkl;kj © ২০২৫স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২৫
স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২৫